পাঠ-প্রতিক্রিয়া এক

আরাফাত শাহরিয়ার মুন

সম্ভাব্য পাঠকদের কৌতূহল, আগ্রহ লুট না ক'রে নতুন কোনও বই বা সিনেমার সম্পর্কে আলোচনা করা কঠিন। তথাপি, সদ্য পাঠ করা নতুন গল্পে নূতনত্ব পাওয়ার উত্তেজনার ভাগবাটোয়ারা না ক'রে চুপচাপ বসে থাকাও অন্তত আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।


অধিনায়ক উপন্যাসটি মেলায় ঘুরতে ঘুরতে আকস্মিক হাতে এসে পড়েছে, বিষয়টি এমন নয়। লেখক আমার পূর্ব-পরিচিত এবং তাঁর একাধিক লেখা আমার পূর্ব-পঠিত, যদিও তাঁর কোনও লেখা নিয়ে লেখা এবারই প্রথম।
বিক্রমাদিত্যের সদ্য প্রকাশিত উপন্যাস 'অধিনায়ক' আমার পড়া তাঁর অন্য যে কোনও গল্প-উপন্যাসের তুলনায় অধিকতর জটিল। (প্রচলিত 'উত্তম' অর্থেও) গল্পের একাংশের পটভূমি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক (অচল)অবস্থা এবং সমস্ত সংলগ্ন নামধাম ইত্যাদি রূপকের পরোয়া না ক'রেই বিদ্যমান।


ঘটনার শুরুর মন্থরতা, এক পর্যায়ের প্রবল আবর্তন, অনেক চরিত্র, তাদের রহস্যাবৃত আচরণ ইত্যাদি সময় সময় যে বিভ্রান্তির জন্ম দেয়, পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে সেসব রহস্যের অনেকগুলোর নাটকীয় উন্মোচন দারুণ মুখরোচক, আনন্দদায়ক, নড়েচড়ে বসার। গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর বক্তব্যের মধ্যে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক স্থবিরতা (অথবা ক্রমশ অধোগমন) নিয়ে তরুণ প্রজন্মের অস্থির ও স্থির চিন্তাভাবনার যে বিচ্ছুরণ ঘটেছে, তা গভীর, অথচ স্বচ্ছ। আপাতদৃষ্টিতে অসম্পৃক্ত তরুণ প্রজন্মের বিচ্ছিন্নতা, নির্লিপ্ততা যে একটি প্রহেলিকা, তাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপের অন্তরালে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সাঙ্ঘাতিক এবং বেপরোয়া সব সমাধান যে একে একে যূথবদ্ধ হচ্ছে অবদমনের স্ফুরণে, এই উপন্যাস যেন তারই এক গুরুতর হুমকি অথবা শীতল সতর্কীকরণ বার্তা।


অধিনায়কের কিছু চরিত্র ও দলের স্বজাত্যবোধের বুনিয়াদ, ব্যাখ্যা, সমরকৌশলের কাঠামো এবং বক্তব্যের প্রখরতা আত্মশ্লাঘা, উদ্দীপনার জন্ম দেয়। লেখকের পূর্বের উপন্যাসের সদৃশ, অধিনায়কের সমাপ্তিও ঘটে চমকের দারুণ এক অভিঘাতে।


সময়ের ব্যবধানে কিছু উপন্যাসের ক্ষেত্রে যেমন পাঠকের মৃত্যু হয়, তেমনই কিছু উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের জন্মও হয়। অধিনায়ক যেন তেমনই একটি উপন্যাস।




আলোকচিত্র: রাম কৃষ্ণ সাহা


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ